Friday, June 25, 2021

কেন্দ্রের নতুন শ্রম আইনের সংস্কার শ্রমিকদের কোণঠাসা করেছে

কেন্দ্রের নতুন শ্রম আইনের সংস্কার শ্রমিকদের কোণঠাসা করেছে। ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের ভেতরে কেন্দ্রীয় শ্রমিক ও নিয়োগ মন্ত্রক ২৯ টি শ্রম আইনের জায়গায় ৪ টি খসড়া বিধি আনে। দ্বিতীয় জাতীয় শ্রম কমিশনের(১৯৯৯-২০০২) সুপারিশ অনুযায়ী এই পদক্ষেপ গৃহীত হয় তবে দীর্ঘ দিন পরে। কমিশন মনে করেছিল যে তখবকার শ্রমিক আইন ছিল জটিল যেগুলির শর্ত অনেক পুরনো এবং শ্রম আইনগুলি পরস্পরের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেগুলি সংস্কার করতে গিয়ে তারা যেটা করল তাতে শ্রমিকদের আরো চাপে পড়তে হলো।

- Advertisement -

শিল্প সম্পর্কিত কোড শ্রমিকদের অবস্থান দুর্বল করে ব্যবসাগুলিকে অনেক শক্তিশালী করে তুলেছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় বলা হয়েছে যে ধর্মঘট করার ১৫ দিন আগে শ্রমিকরা নোটিস দিতে বাধ্য থাকবেন এবং শ্রমিকদের ডাকা কোনো ধর্মঘটই ৬০ দিনের বেশি চলতে পারে না। এছাড়া এই কোড অনুযায়ী মালিক যে কোনো সময়ে ৩০০ জন শ্রমিককে ছাঁটাই অথবা বসিয়ে দিতে পারেন।



সম্প্রতি মহামারীর পরে লকডাউন হওয়ায় লাখো শ্রমিক হাজার হাজার মাইল পায়ে হেঁটে নিজেদের বাড়িতে ফিরে আসেন। এতেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে শ্রম আইনগুলিতে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের নিরাপত্তা দেবার কথা বলাই হয়নি।

চারটি শ্রম বিধি যখন প্রথমবার সংসদে পেশ করা হয় তখন ২৯ টি আইনের বদলে সেগুলিকে আনা হয়েছিল। সংসদের নিয়ম অনুসারে প্রথমে চারটি বিধিকে পেশ করা হয়, তারপরে শ্রমিক বিষয়ক সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটিতে পাঠানো হয়। সংসদে ২০১৯ সালে শ্রমিকদের বেতন বিষয়ক বিধি পাশ করে।

শ্রম কমিশন শ্রম আইনে জটিলতা কমানো এবং বর্তমান শ্রমিক আইনগুলির মধ্যে সমতা আনার সুপারিশ করেছিল। শ্রম যে নতুন ভাবে উদ্ভাবিত হচ্ছে সেগুলিকে ঠিক মতো বুঝতে পারেনি এই সব আইন। তাছাড়া এই সব আইনে দেশের অসংগঠিত ক্ষেত্রের ৯০ শতাংশেরও বেশি শ্রমিকের কথা ভাবাই হয়নি।

শিল্প সম্পর্কিত বিধি, সামাজিক নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিধি এবং পেশাগত নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য এবং কাজের শর্ত বিষয়ক কোড ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে ফের সংসদে পেশ করা হয় এবং কয়েক দিন পরেই সেগুলি পাশ হয়ে যায়। এই সব বিধি এবং স্ট্যান্ডিং কমিটির রিপোর্ট সব মিলিয়ে বোঝা গিয়েছে যে এই সব কোডের শর্তগুলি শ্রমিকদের অবস্থান দুর্বল করে তুলছে। তাদের পূর্বেকার আইনগুলির সঙ্গে তুলনা করলে সে রকমই মনে হয়।

আইনগুলিতে এমন কিছু শর্ত আছে যেগুলি অন্যান্য বিধি ও আইনের সঙ্গে মেলে না। এমন কী নতুন পেশ হওয়া কোডগুলির সঙ্গেও মেলে না।

বেতন সম্পর্কিত কোড অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের সম্পর্কে কিছু বলে না যদিও বেশিরভাগ শ্রমিক অসংগঠিত ক্ষেত্রের। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি গণনা করার পদ্ধতিও অত্যন্ত পুরনো এবং অনেক জরুরি ব্যাপারকে গ্রাহ্যই করে না। সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ক কোড বাড়িতে বসে কাজ করা শ্রমিক থেকে শুরু করে অনেক ধরণের শ্রমিকের কথাই বলে কিন্তু কয়েকটি খণি, আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি শ্রমিক এবং বিড়ি শিল্পের শ্রমিকদের সম্পর্কে ভাবনাচিন্তা করে না। ছাঁটাই হওয়া অথবা কর্মহীন শ্রমিকদের সম্পর্কেও এই সব কোডে কোনো পরিকল্পনা গৃহীত হয়নি। অন্য দিকে বিধি বা কোডে পেশাগত অসুখের কথা বলা হলেও যেভাবে বলা হয়েছে তা ওএসএইচডাবলুসি কোডে বলা হয়নি।

ওএসএইচডাবলুসি কোডে গার্হস্থ্য শ্রমিক ও অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। সাময়িক ভাবে নিযুক্ত শ্রমিক অথবা তাদের পরিবার সহ স্থান পরিবর্তন এবং মহিলা শ্রমিকদের শারীরিক ও যৌন আক্রমণ থেকে বাঁচানোর ব্যাপারেও এগুলিতে কিছু বলা হয়নি। যে সব শিল্পে বিপজ্জনক ও বিষাক্ত পদার্থ কিম্বা পদ্ধতি ব্যবহৃত হয় সেই সব শিল্পে কিশোরদের নিয়োগের ব্যাপারে বাধা দেয় না এই কোড। ঋণ পরিশোধ নিয়েও পরস্পরবিরোধী কথা বলা হয়েছে। কোডে বলা হয়েছে যে একজন পরিযায়ী শ্রমিকের ঋণ তখনই শেষ হয় যখন তার কাজ শেষ হয়ে যায় কিন্তু বেতন সম্পর্কিত কোডে বলা হয়েছে যে কোনো অগ্রিম অর্থই প্রথম বেতন থেকে আসতে হবে।

- Advertisement -
- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -
[td_block_7 modules_on_row=”eyJwaG9uZSI6IjEwMCUifQ==” image_floated=”float_left” image_width=”30″ image_height=”100″ show_btn=”none” show_excerpt=”none” modules_category=”above” show_date=”none” show_review=”none” show_com=”none” show_author=”none” meta_padding=”eyJhbGwiOiIwIDAgMCAxNXB4IiwicG9ydHJhaXQiOiIwIDAgMCAxMHB4In0=” art_title=”eyJhbGwiOiI4cHggMCAwIDAiLCJwb3J0cmFpdCI6IjVweCAwIDAgMCJ9″ f_title_font_family=”712″ f_title_font_size=”eyJhbGwiOiIxNSIsInBvcnRyYWl0IjoiMTEifQ==” f_title_font_weight=”500″ f_title_font_line_height=”1.2″ title_txt=”#000000″ cat_bg=”rgba(255,255,255,0)” cat_bg_hover=”rgba(255,255,255,0)” f_cat_font_family=”712″ f_cat_font_transform=”uppercase” f_cat_font_weight=”400″ f_cat_font_size=”11″ modules_category_padding=”0″ all_modules_space=”eyJhbGwiOiIyNCIsInBvcnRyYWl0IjoiMTUiLCJsYW5kc2NhcGUiOiIyMCJ9″ category_id=”” ajax_pagination=”load_more” sort=”jetpack_popular_2″ title_txt_hover=”#008d7f” tdc_css=”eyJwaG9uZSI6eyJtYXJnaW4tYm90dG9tIjoiNDAiLCJkaXNwbGF5IjoiIn0sInBob25lX21heF93aWR0aCI6NzY3LCJhbGwiOnsiZGlzcGxheSI6IiJ9LCJwb3J0cmFpdCI6eyJkaXNwbGF5IjoiIn0sInBvcnRyYWl0X21heF93aWR0aCI6MTAxOCwicG9ydHJhaXRfbWluX3dpZHRoIjo3Njh9″ cat_txt=”#000000″ cat_txt_hover=”#008d7f” f_more_font_weight=”” f_more_font_transform=”” f_more_font_family=”” image_size=”td_150x0″ f_meta_font_family=”712″ custom_title=”Popular Articles” block_template_id=”td_block_template_8″ border_color=”#008d7f” art_excerpt=”0″ meta_info_align=”center” f_cat_font_line_height=”1″ pag_h_bg=”#008d7f” image_radius=”100%” td_ajax_filter_type=”” f_header_font_size=”eyJwb3J0cmFpdCI6IjE1IiwiYWxsIjoiMTgifQ==” f_header_font_weight=”500″ f_header_font_transform=”uppercase” f_header_font_family=”712″ pag_h_border=”#008d7f” m6_tl=”50″ f_header_font_line_height=”1.5″ m6f_title_font_size=”eyJhbGwiOiIxNiIsInBob25lIjoiMTcifQ==” m6f_title_font_line_height=”1.5″]
error: Content is protected !!