Wednesday, July 28, 2021

বাংলার শাসনভার কেন্দ্রের নেতাদের হাতে চলে গেলে তাতে খুব খারাপ হবে , মন্তব্য অমর্ত্য সেনের

অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বহিরাগত তত্ব নিয়ে তাঁর নিজস্ব ভঙ্গীতে সোচ্চার হলেন। তিনি বললেন, বাংলার শাসনভার স্থানীয় নেতাদের বদলে কেন্দ্রের নেতাদের হাতে চলে গেলে খুব খারাপ হবে। তার কারণ, সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে ওই সব নেতাদের ধ্যানধারণা খুবই সীমিত। আর্থিক নীতি ও সামাজিক ন্যায় নিয়েও তাঁদের কাজকর্ম রীতিমতো ভুলে ভর্তি।
সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির প্রশংসা করেছেন অমর্ত্য সেন। বিশেষ করে মেয়েদের জন্য প্রকল্প, গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন ও খাদ্য সুরক্ষা নিয়ে প্রকল্পগুলি তাঁর খুবই ভালো লেগেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রাজ্যে জাতিগত অস্তিত্বের রাজনীতি মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। তার জন্য হিন্দুত্ববাদের ধ্বজাধারীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন অমর্ত্যবাবু। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর মতো মনীষীরা সাম্প্রদায়িক বিভাজন আটকাতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য নিরলস পরিশ্রম করে গিয়েছেন। আর হিন্দুত্ববাদীরা সেই ক্ষেত্রেই বিভাজন সৃষ্টি করতে চেষ্টা করছেন। তাঁর বক্তব্য, বাংলা যেন জাতীয় অবক্ষয়ের শরিক না হয়। বাংলা ঐক্যের পক্ষে, বিভাজনের বিরুদ্ধে। এটা আশ্চর্যের নয় যে পরিচিতি সংক্রান্ত ইস্যু নির্বাচনী প্রচারের অঙ্গ হবে। তবে পরিচিতির ওপর ঝোঁকের বিষয়টি এখন ভারতীয় বা বাঙালি পরিচিতির চেয়ে অনেক বেশি সংকীর্ণ একটা জায়গায় চলে গিয়েছে। ১৯৪৬ সালেও সাম্প্রদায়িক বিভাজনে এইভাবে মদত দেওয়া হয়নি যা এখন হচ্ছে। তিনি বলেন, ১৯৪০- এর দশকে মহাত্মা গান্ধী বাংলায় যা করেছিলেন বাংলায় তা ধ্বংস করে দেওয়া হতে পারে যার জন্যে মারাত্মক দাম দিতে হতে পারে। দুর্ভাগ্যবশত চলতি বিধানসভা নির্বাচনে এই ক্রূর ছক বেশ ভালোই উৎসাহ পাচ্ছে। গান্ধীজী অবশ্য স্পষ্ট বলেছিলেন যে বাংলা বিভাজনের পক্ষে নয়, ঐক্যের পক্ষে। আসলে বাংলার ভূমিপুত্র এমন কিছু হিন্দু অনুগামীকে সঙ্গে নিয়ে বিজেপি মুসলমানদের ছোট করে চলেছে। এই অভিযোগ করে অমর্ত্য সেন জানান, বহিরাগত তত্ব নিয়ে এত তর্কাতর্কি চলছে। এই তত্বের পুনর্মূল্যায়ন করা দরকার। বুঝতে হবে যে যাঁরা বাইরে থেকে অাসছেন তাঁদেরকে দূরে ঠেলে দেওয়া খারাপ। অন্য দিকে এখানকারই মানুষজনকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা অনৈতিক।
এবার বিধানসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদি আর অমিত শাহের সৌজন্যে খালি খালি বাংলা বনাম গুজরাতের তুলনা চলছে। অমর্ত্যবাবু মনে করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কল্যাণমূলক প্রকল্পের কারণে পারিবারিক আয় তুলনামূলকভাবে কম হওয়া সত্বেও
একটি বাঙালি শিশুর স্বাস্থ্য একটি গুজরাতি শিশুর স্বাস্থ্যের চেয়ে তুলনামূলকভাবে অনেক ভালো।
সারা দেশের নজর এখন বাংলায়। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকেরা রাজ্যে হত্যে দিয়ে পড়ে আছেন। সংকীর্ণ রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা থেকে তাঁদের এত উৎসাহ। বিশেষ করে তাঁরা মনে করছেন যে বিজেপির হাতে বাংলার শাসনভার আসছে। এর পাশাপাশি গরীব মানুষকে অবহেলা, সংখ্যালঘুদের অসম্মান করা, অর্থনীতিকে ধ্বংস করা এবং করোনা মোকাবিলায় ব্যর্থতার জন্য বিজেপি সরকারকে দোষী করেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ। বিজেপি একটি রাজ্যে জয়ী হবার জন্য এতটাই উঠেপড়ে লেগেছে যে কোন কোন বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া দরকার সেটাই ভুলে গিয়েছে।

- Advertisement -
- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

Popular Articles

error: Content is protected !!