Friday, June 25, 2021

বাইডেনের করোনা রিলিফে সাহায্য শুধুই কৃষ্ণাঙ্গ কৃষকদের , বাড়াবে বর্ণ বিদ্বেষ


লিখছেন আমেরিকা থেকে দীপিকা ঘোষ

শেষ পর্যন্ত ম্যারাথন ভোটিং সেশন পেরিয়ে ‘American Rescue Plan Act of 2021’ ওরফে কোভিড-১৯ রিলিফ প্যাকেজ বিল সিনেটে পাস হয়েছে ৬ই মার্চ। লম্বা সেশনের কারণ, প্যাকেজের জন্য বরাদ্দকৃত ১.৯ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়ের কোনো পরিচ্ছন্ন ব্যাখ্যা ডেমোক্র্যাটদের কাছে ছিল না। অর্থাৎ কোন সেক্টরে কতটা অর্থ কিভাবে ব্যয় করা হবে, সে সম্পর্কে তথ্য না দেয়ায় রিপাবলিকানরা বিল পাসে সহমত হতে পারেননি। বিল পাসের পরেও যে তথ্য পরিষ্কার হয়েছে তা নয়। যাহোক হাউজের ভোট, বিলের পক্ষে পড়েছিল ২১৯টি এবং বিপক্ষে ২১২। সিনেটে দুই দলে সদস্য সংখ্যা আপাতত ৫০-৫০। কাজেই মেজরিটি পেতে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসও ভোট দিতে প্রস্তুত হয়েই ছিলেন। প্রয়োজন অবশ্য হয়নি। ভোটের দিন রিপাবলিকান দলের এক সিনেট সদস্য ব্যক্তিগত কারণে উপস্থিত হতে না পারায় ৫০-৪৯ ভোটে বিলটি পাস হয়ে যায়। কিন্তু ‘The American Rescue Plan Act of 2021’নিয়ে যে বিতর্ক এবং উত্তেজনা শুরুতে উত্তাল ছিল, এখনো তা থেমে নেই।
বিতর্কের বহুবিধ কারণের একটি হলো, ২০২১-এর কৃষি প্রণোদনা পলিসি । এ বছর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য (বিভিন্ন খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ প্রক্রিয়াসহ) বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ নির্ধারিত হয়েছে ১০.৪ বিলিয়ন ডলার। কৃষককে সহযোগিতা দিতে সাবসিডি সিস্টেম আমেরিকায় অনেককাল ধরেই প্রচলিত। ২০২০-তে এই অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু ২০২১-এ ১০.৪ বিলিয়নের মধ্যে ৫ বিলিয়নই সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে ‘Emergency Relief for Farmers of Color Act’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে। যেখানে বলা হয়েছে, ১২০ পার্সেন্ট প্রণোদনা দেওয়া হবে শুধুমাত্র সামাজিকভাবে অনগ্রসর কৃষকদেরকে। এই তালিকায় কোনো শ্বেতাঙ্গ নেই। অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন কৃষ্ণাঙ্গ, হিসপ্যানিক, নেটিভ আর এশিয়ান আমেরিকান কৃষকরা। তাদের সব রকম ঋণই মওকুফ করা হয়েছে। এছাড়াও এডুকেশন, ট্রেনিং এবং বিভিন্ন টেকনিক্যাল সাহায্যের জন্যও তারা অর্থ পাবেন ।
কিন্তু হঠাৎ শ্বেতাঙ্গ কৃষকদের বিরুদ্ধে বিমাতাসুলভ আচরণ করে শুধুমাত্র অশ্বেতাঙ্গদের ক্ষেত্রেই এতটা সহমর্মী এবং সহৃদয় হয়ে ওঠার কারণ কী? শ্বেতাঙ্গরা কি কোভিড করোনার কারণে অন্যদের মতো ক্ষতিগ্রস্ত হননি? এর উত্তর, আমেরিকায় Racial Equity প্রতিষ্ঠার মহৎ উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রযন্ত্রের সবখানেই বিপ্লবপূর্ণ ভাঙচুর শুরু হয়েছে। নতুন কৃষি নীতি সেক্ষেত্রে একটি মাইল ফলক। শতাব্দীকাল ধরে রেসিয়্যাল ইনজাস্টিস এখানকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রন্ধ্রে রন্ধ্রে দাগ কেটে বসেছে। জনমানস থেকে তাদের দূর করতেই এই পদ্ধতি অনুসরণ করা। অতএব Racial Equity সুপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সামাজিক প্রতিষ্ঠানে এখন হররোজ লেকচার দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু জনমানস তো অচেতন জড়পদার্থ নয়। তাদেরও বিচার বিশ্লেষণের সক্ষমতা রয়েছে। সুতরাং ‘Emergency Relief for Farmers of Color Act’ নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষুব্ধতা বাড়ছেই।
১৬ই মার্চ সংবাদের একটি শিরোনাম ছিল –‘Farmers Frustrated with latest Covid-19 relief legislation.’ একটি ফেসবুকের পোষ্ট: Minority farmers get big bonus, White ones get none, because of Democrats. Democrats unfairly favored minority farmers over White farmers. সন্দেহ নেই, এই ধরনের বিল কেবল ইন্টাররেসিয়্যাল টেনশনের জন্ম দেবে তাই নয়। কৃষক সমাজের বিভক্ততিকেও ভয়ংকরভাবে উৎসাহিত করবে। পুরো আমেরিকায় খাদ্য সরবরাহ করে জীবন বাঁচাতে সব কৃষকেরই অবদান রয়েছে, এই সত্য অস্বীকার করলে এসব পদক্ষেপ গণতন্ত্রের রক্ষক হিসেবে নয়, দেখা দেবে বিপর্যয় হয়ে। কারণ বহু বছরের অনলস প্রচেষ্টায় গণতন্ত্রকামী রাষ্ট্রনেতারা এদেশে যে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত করে গিয়েছেন, তাতে ব্ল্যাক, ইয়েলো, ব্রাউন, পারপল কিংবা হোয়াইটদের জন্য আলাদা আলাদা আইন প্রণয়ন করা হয়নি।
তাই জর্জিয়ার কৃষক ড্যারেলের কথায় –This is wrong and un-American. Separating farmers by race and ethnicity for debt relief will not only divide them – it will also promote division in the farmers community! যুক্তরাষ্ট্রের ছোট মাপের সাধারণ মানুষগুলো যা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করছেন, ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা শক্তিমান মানুষেরা ক্ষমতা কুক্ষিগত করার দুষ্টবুদ্ধি ছেড়ে কবে সেটা বুঝতে চাইবেন, সেটাই এখন এক অমীমাংসিত জিজ্ঞাসা।


- Advertisement -
- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -
[td_block_7 modules_on_row=”eyJwaG9uZSI6IjEwMCUifQ==” image_floated=”float_left” image_width=”30″ image_height=”100″ show_btn=”none” show_excerpt=”none” modules_category=”above” show_date=”none” show_review=”none” show_com=”none” show_author=”none” meta_padding=”eyJhbGwiOiIwIDAgMCAxNXB4IiwicG9ydHJhaXQiOiIwIDAgMCAxMHB4In0=” art_title=”eyJhbGwiOiI4cHggMCAwIDAiLCJwb3J0cmFpdCI6IjVweCAwIDAgMCJ9″ f_title_font_family=”712″ f_title_font_size=”eyJhbGwiOiIxNSIsInBvcnRyYWl0IjoiMTEifQ==” f_title_font_weight=”500″ f_title_font_line_height=”1.2″ title_txt=”#000000″ cat_bg=”rgba(255,255,255,0)” cat_bg_hover=”rgba(255,255,255,0)” f_cat_font_family=”712″ f_cat_font_transform=”uppercase” f_cat_font_weight=”400″ f_cat_font_size=”11″ modules_category_padding=”0″ all_modules_space=”eyJhbGwiOiIyNCIsInBvcnRyYWl0IjoiMTUiLCJsYW5kc2NhcGUiOiIyMCJ9″ category_id=”” ajax_pagination=”load_more” sort=”jetpack_popular_2″ title_txt_hover=”#008d7f” tdc_css=”eyJwaG9uZSI6eyJtYXJnaW4tYm90dG9tIjoiNDAiLCJkaXNwbGF5IjoiIn0sInBob25lX21heF93aWR0aCI6NzY3LCJhbGwiOnsiZGlzcGxheSI6IiJ9LCJwb3J0cmFpdCI6eyJkaXNwbGF5IjoiIn0sInBvcnRyYWl0X21heF93aWR0aCI6MTAxOCwicG9ydHJhaXRfbWluX3dpZHRoIjo3Njh9″ cat_txt=”#000000″ cat_txt_hover=”#008d7f” f_more_font_weight=”” f_more_font_transform=”” f_more_font_family=”” image_size=”td_150x0″ f_meta_font_family=”712″ custom_title=”Popular Articles” block_template_id=”td_block_template_8″ border_color=”#008d7f” art_excerpt=”0″ meta_info_align=”center” f_cat_font_line_height=”1″ pag_h_bg=”#008d7f” image_radius=”100%” td_ajax_filter_type=”” f_header_font_size=”eyJwb3J0cmFpdCI6IjE1IiwiYWxsIjoiMTgifQ==” f_header_font_weight=”500″ f_header_font_transform=”uppercase” f_header_font_family=”712″ pag_h_border=”#008d7f” m6_tl=”50″ f_header_font_line_height=”1.5″ m6f_title_font_size=”eyJhbGwiOiIxNiIsInBob25lIjoiMTcifQ==” m6f_title_font_line_height=”1.5″]
error: Content is protected !!