Wednesday, July 28, 2021

চিনের বিরুদ্ধে কতটা শক্ত হতে পারবে মার্কিন প্রশাসন? লিখছেন আমেরিকা থেকে দীপিকা ঘোষ


বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ইউএস-চিন সম্পর্কের তিক্ততা বাইডেন-হ্যারিস প্রশাসনে কতটা গুরুত্ব পাবে তা নিয়ে অধিকাংশ আমেরিকানদের মনেই সংশয়ের দোলাচল রয়েছে। Pew Research Center-এর একটি জনমত জানাচ্ছে, মাত্র ১৯ শতাংশ মানুষ নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেন চিনের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে সক্ষম। বাইডেন অবশ্য প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্পর্কে কদিন আগেই বলেছেন – He is one of the guys, like Putin, Who thinks that autocracy is the wave of the future and democracy can’t function in an ever-complex World. তবে বাস্তবে চিনের একচ্ছত্র সুপার পাওয়ার হয়ে ওঠার স্বপ্ন কখনোই সফল হবে না। কারণ সে সম্ভাবনাই তিনি দেখছেন না। তাঁর মতে – That is not going to happen on my watch, because the United States is going to continue to grow.
বিশ্বের একচ্ছত্র সুপার পাওয়ার হয়ে ওঠার স্বপ্ন চিনের বহুকালের। তার বাস্তবায়নও ত্বরিতগতিতেই এগিয়েছে ধনতান্ত্রিক আমেরিকার সঙ্গে ব্যবসায়িক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক সম্পর্কের গাঁটছড়া বেঁধে। ১৯৭১-এর গোড়ায় নিক্সনের সময় যে সম্পর্কের প্রস্তুতি, নব্বইয়ের মাঝামাঝি থেকে তার ডালপালা বিস্তারের শুরু। এক্ষেত্রে চিন বিশেষভাবে সুবিধা পেয়েছে ‘ওয়াল স্ট্রিট’এর সঙ্গে সুগভীর বন্ধুত্বের সহযোগিতায়। ‘ওয়াল স্ট্রিটের’ মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের প্রায় সব দিগন্তে চিনের প্রভাব ও শক্তি সুবিস্তৃত হয়েছে। অথচ আমেরিকাকে দীর্ঘকাল ম্যানিপুলেট করার পরেও রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র দৃশ্যমানভাবে যতটা বিরোধিতায় নেমেছে, চিনের বিরুদ্ধে ততোটাই গভীর সহ্যশক্তির পরিচয় দিয়ে গেছে। এক শ্রেণির এলিট সমাজ আজও আচ্ছন্ন চিনের বন্ধুত্বে। এমনকি বাইডেন নিজেও ২০২০-তে বলেছিলেন, চিনকে আমেরিকার সিরিয়াস প্রতিযোগি কিংবা থ্রেট ভাবার কোনো কারণ নেই। এখন হঠাৎ ১৮০ ডিগ্রী ঘুরে দাঁড়িয়ে বলছেন, ব্যবসাবানিজ্য এবং মানবাধিকার মেনে চলার ক্ষেত্রে চিনকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি অনুসরণ করতে হবে।
প্রেসিডেন্ট বাইডেন সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহুবার তাঁর বক্তব্য বদল করেছেন। সিনেটে কিংবা ওবামা প্রশাসনের আট বছরে ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন যেমন অভিমত দিয়েছিলেন, বর্তমানে বহু ক্ষেত্রেই তার উল্টো প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে। স্বাধীনভাবে জোসেফ বাইডেন কতটা পদক্ষেপ গ্রহণে সক্ষম, সে সম্পর্কেও কলগুঞ্জন থেমে নেই। প্রেসিডেন্ট ওবামার সঙ্গে তাঁর আলাপ আলোচনা আপাতত নিয়মিত ঘটনাপ্রবাহ। ওবামার বিরুদ্ধে অভিযোগ, চিনের ক্ষেত্রে তিনি তোষণনীতি অনুসরণ করেছেন। ২০০৮ সালের পরে চিন-আমেরিকার সম্পর্ক অন্তরঙ্গ হয়ে উঠেছিল ওবামার ব্যক্তিগত উদ্যোগেই। যেখানে ১৯৭২ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট নিক্সন, ফোর্ড, রিগ্যান, জর্জ বুশ, ক্লিন্টন, ওয়াকার বুশ মিলে মোট নয়বার চিন পরিদর্শন করেছেন, সেখানে মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যেই দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক আলোচনা সারতে ১২ বার মুখোমুখি হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা আর শি জিনপিং।
চিন সম্পর্কে ওবামার মতো বাইডেন-হ্যারিসও প্রীতিপূর্ণ মনোভাবের পরিচয় আগাগোড়া দিয়েছেন। আদৌ তাঁদের বদল হবে এমন বিশ্বাস বাইডেনবিরোধীদের নেই। এছাড়া চিনের সঙ্গে বাইডেন পরিবারের রয়েছে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের বানিজ্যিক সম্পর্ক। যা থেকে ২০১৮-য় ছেলে হান্টার বাইডেনের ল্যাপটপ দোকানে সারতে দেয়ার পরে বেরিয়ে এসেছিল বিশাল দুর্নীতির বৃত্তান্ত। সে বিষয়টি তাঁর মনোস্তত্ত্বে আলোড়ন তুলবে না, সে সম্বন্ধে নিশ্চিত হওয়া একেবারেই অসম্ভব। কয়েক বছর আগের কমলা হ্যারিসের বক্তব্য বিশ্লেষণ করলেও তাঁর চিন এবং পাকিস্তান প্রীতির দিকটি স্পষ্টতই ধরা পড়ে।
যাইহোক, সত্তর দশকের কমিউনিস্ট চিনের নাটকীয় পরিবর্তনের পথে হেঁটে সাইক্লোনের গতিতে ক্যাপিটালিস্ট হয়ে ওঠার বিস্তারিত কাহিনী নিক্সন থেকে ওবামা পর্যন্ত সব প্রেসিডেন্টদের আমলেই কমবেশি প্যাটার্ন নিয়েছে। তার চার যুগ আগের কৃষিনির্ভর সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় কৌলিন্য পাওয়ায় ধনতান্ত্রিক চিন আপাতত স্বৈরাচারির ভূমিকায়। তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের দ্রুতগতি প্রথমবার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার পরে। চিনের অন্যায় বানিজ্যিক নীতি, আমেরিকার বিভিন্ন ইনটেলেকচুয়্যাল সম্পত্তি চুরি, দেশের অভ্যন্তরীন বাজারে মার্কিন সংস্থাগুলোকে প্রবেশ করতে না দেয়া, চিন-ভারত সীমান্তে অন্যায়ভাবে ক্ষমতা প্রদর্শন, জোর করে প্রযুক্তি হস্তান্তরসহ বিভিন্ন অভিযোগে তিনিই প্রথমবার রুখে দাঁড়িছিলেন। এখন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আদর্শও আপাদমস্তক বদলে গেছে। অতএব চিন-ইউএসের মুখের তিক্ততা আদৌ বাস্তব পরিণতি পাবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ-সংশয়ের অবসান এখনো ঘটেনি।



- Advertisement -
- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

Popular Articles

error: Content is protected !!