পুতুলখেলা শেষ হলো শাঁওলির

দীপক মিত্র

প্রয়াত নাট্য ব্যক্তিত্ব শাঁওলি মিত্র। বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। তবে, হাসপাতালে যাওয়া বা চিকিৎসা পরিষেবা নেওয়ার বিষয়ে তাঁর তীব্র অনীহা ছিল। অসুস্থতা সত্ত্বেও হাসপাতালে ভর্তি হতে চাননি। এমনকী মৃত্যুর পর, তাঁর মরদেহ যাতে প্রকাশ্যে না আনা হয়, সেই বিষয়েও একটি ইচ্ছাপত্র লিখে গিয়েছিলেন বাংলার আধুনিক যুগের অন্যমত শক্তিশালী নাট্য ব্যক্তিত্ব। আজ ১৬ জানুয়ারি ২০২২, দুপুর ৩টে বেজে ৪০ মিনিটে বেহালার বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। কলকাতার সিরিটি শ্মশানে অনাড়ম্বরভাবে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।
শাঁওলি মিত্র হচ্ছেন বাংলা থিয়েটার ও সিনেমার অভিনেত্রী। তিনি ঋত্বিক ঘটকের যুক্তি তক্কো আর গপ্পো চলচ্চিত্রে বঙ্গবালা চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। তিনি ছিলেন শম্ভু মিত্র ও তৃপ্তি মিত্রের কন্যা এবং তার পিতামাতাও থিয়েটার ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ২০১১ সালে তিনি রবীন্দ্র সার্ধশত জন্মবর্ষ উদ্‌যাপন সমিতির একজন চেয়ারপার্সন ছিলেন।

তিনি নিজে একজন বিশিষ্ট নাট্য-ব্যক্তিত্ব। পঞ্চম বৈদিক নাট্যদলের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি নাটকে অভিনয় শুরু করেন মাত্র সাড়ে পাঁচ বছর বয়স থেকে। শিশু-শিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন বহুরূপী প্রোডাকশনের তুলসী লাহিড়ির “ছেঁড়া তার”-এর বশিরের ভূমিকায় ও “ডাকঘর”-এ অমলের ভূমিকায়।

অভিনয় করেছেন ঋত্বিক ঘটকের “যুক্তি তক্কো আর গপ্পো” ছায়াছবিতে।

তাঁর ১৯৮৩ সালে রচিত এবং অভিনীত নাটক “নাথবতী অনাথবৎ”, বাংলা নাটকের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলীর মধ্যে পড়ে। তাঁর নির্দেশিত অন্যান্য নাটকের মধ্যে রয়েছে “কথা অমৃতসমান”, “বিতত বিতংস”, “পুতুল খেলা”, “রাজনৈতিক হত্যা”, “চণ্ডালী” প্রভৃতি।

১৯৯১ সালে তিনি আনন্দ পুরস্কারে ভূষিত হন “নাথবতী অনাথবৎ”-এর জন্য। সে বছরই পান শিরোমণি পুরস্কার এশিয়ান পেইন্টস এর তরফ থেকে। ২০০৩ সালে ভূষিত হন সংগীত নাটক অ্যাকাদেমি পুরস্কারে। ২০০৬ সালে ভূষিত হন নরওয়ের সংস্কৃতি মন্ত্রকের “দ্য ইবসেন সেন্টেনিয়াল এওয়ার্ড”-এ। ২০০৯ সালে কবি ভারত সরকার দ্বারা পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হন।
সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়ে যে ক’জন বুদ্ধিজীবি সর্বাগ্রে তত্কালীন সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে মুখ খুলেছিলেন, শাঁওলি মিত্র তাঁদের মধ্যে অন্যতম।

পশ্চিমবঙ্গের সরকার তাঁকে “বঙ্গ বিভূষণ” সম্মানে ভূষিত করেন। এ ছাড়া সেই সরকার তাঁকে বিভিন্ন সরকারী কর্মকাণ্ডের পরামর্শদাতা হিসেবে নিযুক্ত করেন।

অভিনীত নাটক

বিতত বীতংস
নাথবতী অনাথবৎ, পুতুলখেলা
একটি রাজনৈতিক হত্যা, হযবরল
কথা অমৃতসমান, লঙ্কাদহন
চণ্ডালী, পাগলা ঘোড়া
পাখি, গ্যালিলিও’র জীবন
ডাকঘর, যদি আর একবার প্রভৃতি।

তাঁর মরদেহ যাতে প্রকাশ্যে না আনা হয়, সেই বিষয়েও একটি ইচ্ছাপত্র লিখে গিয়েছিলেন বাংলার আধুনিক যুগের অন্যমত শক্তিশালী নাট্য ব্যক্তিত্ব,এই সেই ইচ্ছা পত্র।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!