ময়নাগুড়িতে চলছে রাতভোর উদ্ধার,ঝাঁপিয়ে পড়েছেন এলাকার মানুষ, প্রশাসন, মৃত কত বলা শক্ত

অর্ণব রায়, নিজস্ব সংবাদদাতা- জলপাইগুড়ি জেলার নিউ দোমহনি ও নিউ ময়নাগুড়ি স্টেশনের মাঝে গুয়াহাটিগামী ১৫৬৩৩ আপ বিকানের-গুয়াহাটি এক্সপ্রেসে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার পর এন ডি আর এফ, বি এস এফ, পুলিশ ও সেনার পাশাপাশি স্থানীয় যুবকরাও যে যেভাবে পেরেছেন, ঝাঁপিয়ে পড়েছেন উদ্ধারকাজে। ট্রেনটির বেশ কয়েকটি কামরা লাইনচ্যুত হয়েছে, শুধু নয়, একটি কামরা আর একটির উপর উঠেও গেছে।প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে নিউ ময়নাগুড়িতে স্টপেজ না থাকায় যথেষ্ট জোরেই চলছিল ট্রেনটি।জানুয়ারির কনকনে ঠাণ্ডার বিকেলে গ্রামের ঘরে ঘরে যখন চলছে আগামীকালের পৌষ পার্বণের প্রস্তুতি তখনই দুর্ঘটনার বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে দোমহনী গ্রাম। ঘটনায় প্রচুর প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।তবে সংখ্যাটা মৃত বা আহতের সংখ্যা ঠিক কত, তা আগামীকালের আগে বলা শক্ত, এখনও অবধি প্রায় সাত আট জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। আহত যাত্রীদের উদ্ধার করার পর তাঁদের ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতাল, জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতাল এবং উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।বাইরের এ্যাম্বুলেন্স আসার আগে স্থানীয় সরকারি-বেসরকারি এম্বুলেন্স চলকেরাও প্রশাসনকে ব্যাপক সাহায্য করেছেন দুর্ঘটনাগ্রস্ত যাত্রীদের হাসপাতালে নিয়ে আসতে।
শুধুমাত্র দুর্ঘটনাস্থলই নয়, এলাকার যুবকেরা অনেকে ছুটে এসেছেন হাসপাতালেও। অনেকেই দিতে চাইছেন রক্ত। তাঁরা ছুটে গিয়ে এ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে আনছেন চোট লাগা যাত্রীদের। একটি শিশুকে এ্যাম্বুলেন্স থেকে কোলে করে নামিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাবার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করলে আর চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি স্থানীয় যুবক শুভাশিস। অনেকে আবার হাসপাতালে আগত শিশুদের জন্য খোঁজ করছেন গরম দুধের।অনেকে আবার জেলার (জলপাইগুড়ি) ব্লাড ব্যাঙ্কেও ভীড় করেছেন রক্তদান করতে। তাঁরা দুর্ঘটনায় পড়া মানুষের পরিবারের সদস্যদের একে অপরের খোঁজও এনে দিচ্ছেন ব্যাক্তিগত উদ্যোগে।
দুর্ঘটনা স্থল থেকে আধ কিলোমিটার দূরত্বে থাকা বি এড কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁদের দরজা খুলে দিয়েছে আপাত সুস্থ যাত্রীদের অস্থায়ী ক্যাম্পের জন্য। প্রশাসন থেকে জল, শুকনো খাবার, রাতের খাবার, বেবিফুড এবং থাকার যায়গার ব্যাবস্থা করা হয়েছে। বি এড কলেজের কর্ণধার মনোজ সাহা জানালেন ….. ‘ মানুষের পাশে এভাবে থাকতে পেরে ভালো লাগছে।প্রশাসনের সাথে আমাদের ইন্সটিটিউটের সমস্ত শিক্ষক ও কর্মীবৃন্দও সাধ্যমত চেষ্টা করছেন দুর্ঘটনাগ্রস্ত যাত্রীদের যথাসম্ভব সাহায্য করতে।’ ক্যম্পে স্থানীয় প্রশাসনের আধারিকারিকরাও রয়েছেন মানুষের দিকে সমস্ত রকম সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা’র মাধ্যমে সরকারি বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে সুস্থ যাত্রীদের নিশুল্ক ভাবে যার যার এলাকায় পৌঁছে দিতে।সেই বাসগুলি আজ সারারাত ধরেই একে একে ছাড়বে বি এড কলেজের ক্যাম্প থেকেই।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!