তুমি অধম, তাই বলে আমি উত্তম হইব না কেন?
       লিখছেন অশোকেন্দু সেনগুপ্ত

Secular  শব্দের প্রকৃত অর্থ কী ধর্মনিরপেক্ষতা? কিভাবে এসেছে এদেশে, আর কিভাবেই বা পেতে পারি সেই সুশিক্ষা? বাংলাদেশ থেকে ত্রিপুরা, অভিজ্ঞতার আলোকে বিশ্লেষক তুলে আনলেন গভীর সত্য

Secular  শব্দের প্রকৃত অর্থ কী ধর্মনিরপেক্ষতা? কে জানে! আমি অন্তত, জানি না। জ্ঞানী -গুণী মানুষদের অনেককে শুধিয়েছি,  তাঁরাও কিন্তু এক শব্দে প্রকাশ করতে পারেননি সেকুলার শব্দের অর্থ,
জেনেছি তার ব্যাখ্যা মাত্র। সেকুলার শব্দের মোদ্দা অর্থ যে ব্যবস্থা ইত্যাদি সব ধর্ম ও তার আচার-বিচার থেকে দূরে থাকে। এমন হবার জন্য নাস্তিক হতে হবে বা ধর্ম ত্যাগ করতে হবে এমন না। বোঝা গেল?  এমন ব্যাখ্যা বুঝতে প্রয়োজন সুশিক্ষা।  কোথায় পাই। কবেই তো টলস্টয় বলেছিলেন, রাষ্ট্র চায় শিক্ষা,  কিন্তু চায় না তার নাগরিকরা পাক সুশিক্ষার আলো(enlightenment) ।
এই দেশ যখন আর ব্রিটিশ উপনিবেশ রইল না, তখনও কিন্তু দেশের মাত্র ১৮% মানুষ সাক্ষর। রাষ্ট্র সকলকে সাক্ষর করে তোলার দায়িত্ব স্বীকার করে নিল, ১০ বছরের মধ্যে সেই প্রতিশ্রুতি পালনের সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতিও মিলল।
লাভ কী হলো? 
আমরা যে শিক্ষা কাঠামো পেলাম রাষ্ট্রের কাছ থেকে তা না দেশজ শিক্ষা কাঠামো, না রবীন্দ্র-গান্ধী শিক্ষা -অনুসারী কোনও কাঠামো। এদিকে, নানা কারণে সরকারি ব্যবস্থার চাপে ও হল্লায় বিরক্ত বেশ কিছু দয়াবান বা দায়িত্ববান মানুষ সরে দাঁড়ালেন। রাষ্ট্র সব মানুষের সাক্ষরতার দায় কাঁধে তুলে নিল, তবু দেশ পুরো সাক্ষর হলো না আজও।সুশিক্ষিত খুঁজে কাজ নেই, আজও এদেশের প্রতি  পাঁচজনে একজন নিরক্ষর। ।নতুন নতুন স্লোগান শুনলাম পেলাম না সুশিক্ষা। ফলে কেউ মসজিদ ভাঙ্গে তো কেউ  ছোটে মন্দির ভাঙ্গতে। গুরুদ্বারা বা চার্চ বুঝি কারও চোখে হয়ে ওঠে  বালি, তারা সহ্য করতে পারে না। কেউ প্রশ্ন তোলে -ওরা কেন হজ করার জন্য অর্থসাহায্য পাবে, কেউ প্রশ্ন তোলে দুর্গাপুজোয় কেন ওদের অর্থসাহায্য দেয় সরকার? এরা অনেকে সাক্ষর, অনেকের চোখধাঁধানো ডিগ্রি আছে, কিন্তু তবুতো সংশয় জাগে – এরা কেউ কী সুশিক্ষিত?

অনেকেই নিশ্চয় বারবার শুনেছেন যে, শিক্ষা খাতে ৬% বাজেট বরাদ্দ জরুরি, কিন্তু এমন দাবি সংসদের ভেতরে কতবার তোলা হয়েছে? কেন তা যথেষ্ট গুরুত্ব পেল না?
বলতেই পারেন যে, সংসদে নির্বাচিত সবারই বা সব দলেরই নজর যে সিংহাসনে। তাদের কাছে শিক্ষা তুচ্ছ।
এদেশে বা সব দেশেই সব রকম আলোচনায় দোষ বা গুণ খোঁজা হয় রাজনৈতিক বিবেচনায়। আমাদের এই রোগটা বেশ বেশি। তাই বুঝি প্রকৃত শিক্ষার অভাব বা শিক্ষা বিস্তারে সরকারের ব্যর্থতা আমাদের নজর এড়িয়ে যায় বা সরকারি লক্ষ্য খোঁড়ায়। নিশ্চয় আরও দোষ আছে আমাদের। আর একটি দোষের কথা বলে থামি।
কখনও সখনও রাজনৈতিক  দল বা তার নেতা/নেত্রীর সমালোচনাও চলে।  কেন হজযাত্রায় ভরতুকি বা পুজোতে ক্লাবগুলিতে অনুদান? এই সমালোচকদের প্রায় কেউই খুঁটিয়ে দেখেন না আর্থিক অনুদানের এই অভিযোগ কতটা সত্য, তা কি – প্রচার না অপপ্রচার।
একবার এই রাজ্যের এক মুখ্যমন্ত্রী নাকি বলেছিলেন মাদ্রাসাগুলি জঙ্গী বা সন্ত্রাসীদের আঁতুড়ঘর, অনেকে তা বিশ্বাসও করেছিলেন, কিন্তু কেউই তাঁকে শুধোননি, কেন তিনি এই রাজ্যের কয়েক হাজার খারিজি মাদ্রাসাগুলি বন্ধে কোনও উদ্যোগ নিলেন না। কেন বাম সরকারও ক্লাবগুলিকে আর্থিক অনুদান দিয়েছিলেন। প্রশ্ন না তোলা তো সুশিক্ষা নয়। তাদের মোদ্দা কথা একজন নন্দঘোষ চাইই চাই।
আমরা, এই অর্ধশিক্ষিতরা কিন্তু কখনও রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের বা পদক্ষেপহীনতার নিন্দে করি না। এই যে ত্রিপুরায় ব্যস্ত হয়ে কিছু দুস্কৃতি মসজিদ ভাঙ্গছে বা ভাঙ্গল তাদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিল না – যাই বলুক আইনগ্রন্থ বা সংবিধান। কেন নিল না ব্যবস্থা? কাশ্মীরেও নাকি অত্যাচার নেমেছে, বিশেষত বিশ্বকাপে পাকিস্তানের কাছে হারার পর। কেন হবে না, যে দেশের অধিনায়কও নিজের টিমের খেলোয়াড়কে নিরাপত্তা দিতে ইতস্তত ভয় পায়,সেখানে এমনটাই হয়।  অর্ধশিক্ষিতরা দেশের ইতিহাস বা সংস্কৃতি ভুলে, প্রশ্ন তোলে, ওরা কেন হিন্দুদের দুর্গাপুজোয় বাধা দেয়, কোন সাহসে? ওরা কেন জানে না যে দেশটা ভাগ হয়েছে ধর্মের ভিত্তিতে। 
এই অর্ধশিক্ষিতরা  আজ ক্ষমতায়  এবং তাঁদের ক্ষমতায় এনেছি আমরাই। আমরাই তাদের অধিনায়ক বানিয়েছি।
সুশিক্ষিত খুঁজে কাজ নেই, আজও এদেশের প্রতি  পাঁচজনে একজন নিরক্ষর।  ত্রিপুরায় যারা সরকার চালানোর দায়িত্বে তারাই কি জানে দেশের ইতিহাস বা সংস্কৃতি? ত্রিপুরার সরকার নিশ্চেষ্ট থাকলেও বাংলাদেশ সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে, কিন্তু তাকি যথেষ্ট? তারা কী পেরেছে সুশিক্ষার আয়োজন করতে? তারা কী উন্নয়ন বলতে বোঝে আর্থিক উন্নয়ন, জিডিপি বৃদ্ধি? বোঝে না আত্মিক উন্নয়ন?
সুশিক্ষার অভাব এবং তার সুযোগ নিয়ে এদেশে, ত্রিপুরায় বা বাংলাদেশে একই নিয়মে সরকার গঠিত হয়। তারা ধর্ম বোঝে না, সংস্কৃতি বোঝে না, ইতিহাস বোঝে না – বুঝতে চায় না। তারা কেবল ক্ষমতা চায় যে কোনও মূল্যে। এতো রক্ত কেন? এমন প্রশ্নে তারা বা তাদের নেতারা বিচলিত হয় না।
কেউ বলে নাঃ তুমি বিঅধম, তাই বলে আমি উত্তম হইব না কেন? হায় বঙ্কিম! 

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!