আমার মহালয়া


মতিউল ইসলাম

আজ মহালয়া আজ থেকে উৎসব উৎসব মনে হওয়ার দিন,আজ দুর্গার মর্ত্যে তে আগমনের দিন,সনাতন ধর্ম মতে এই মহালয়া তিথিতে যারা পিতৃ-মাতৃহীন তারা তাদের পূর্বপূরূষের স্মরন করে, পূর্বপূরুষের আত্নার শান্তি কামনা করে অঞ্জলি প্রদান করেন । সনাতন ধর্ম অনুসারে এই দিনে প্রয়াত আত্নাদের মত্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, প্রয়াত আত্নার যে সমাবেশ হয় তাহাকে মহালয় বলা হয় । মহালয় থেকে মহালয়া ।পিতৃপক্ষের ও শেষদিন এটি ।
মহালয়ার দিন মা দূর্গা সন্তানাদি,সখী জয়া ও বিজয়াকে নিয়ে দলবলসহ পৃথিবীতে আগমন করেন। এইদিন চন্ডীপাঠ করে মা দূর্গাকে আমন্ত্রন জানানো হয়।
এতো গেল ধর্মমতের কথা এবার কিছু আমার কথা বলি মহালয়া আর আমাদের শৈশব এক সুত্রে গাঁথা, নিজেকে অসাম্প্রদায়িক বা সংখ্যাগুরু কে তেল প্রদান নয়, বলছি একেবারেই বাস্তব কথা আমাদের আব্বা মহালয়ার ভোরে আমাদের সকল কে উঠিয়ে দিতেন শিরশিরে ঠান্ডায় আমরা রেডিও কে ঘিরে বসে শুনতাম বিরেন্দ্র ভদ্রের গলায়
ইয়া দেবী সর্বভূতেষু শক্তিরূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমো নমঃ।।
ইয়া দেবী সর্বভূতেষু জাতিরূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমো নমঃ।।
ইয়া দেবী সর্বভূতেষু লজ্জারূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমো নমঃ।।
আর অবাক হয়ে দেখতাম আব্বা ও একসঙ্গে নির্ভুল ভাবে পাঠ করছেন.
প্রসঙ্গক্রমে জানিয়ে রাখি আব্বা কিন্তু মাত্র নয় বছর বয়সে কোরান শরিফ খতম করেন,এবং সর্বদা তিনি বলতেন সকল ধর্ম কে শ্রদ্ধা করার বোধ তিনি তার ইসলাম ধর্ম থেকে পেয়েছেন.
আমার কাছে মহালয়া সপ্তাহ শেষে আব্বার চাকরীস্থল থেকে বাড়ি ফিরে আসার ছোটবেলার আনন্দ,
মহালয়ার দিন আজো অকারণে মনে খুশির বান আসে, মা আসছেন ভাবতে ভালো লাগে, আমার দুর্গা মাকে ভালো লাগে, ভালো লাগে ক্রুশবিদ্ধ যিশুর হাসিমুখ, আমার পাঁচ ওয়াক্তের আজানের সুর ভালো লাগে,
আমি কি স্বাভাবিক? ?

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!