Wednesday, July 28, 2021

করোনাকে ঢাল করে চলছে নিম্ন ও মধ্যবিত্তকে কর্মহীন করারএক সুগভীর চক্রান্ত,লিখছেন সুদেষ্ণা ভট্টাচার্য্য

লক ডাউনের নামে অতি দ্রুত পরিবর্তন ঘটিয়ে ফেলা হচ্ছে সামাজিক, রাজনৈতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির

- Advertisement -

এক ভয়াবহ আবহ তৈরির জন্যই করোনার জুজু মানুষকে দেখানো হচ্ছে। এত প্যানডেমিক নয়, প্ল্যানডেমিক ! সারা বিশ্ব জুড়েই এটা চলছে । লক ডাউন একটা সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ। লক ডাউন করে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে মানুষের শ্রম আর দরকার নেই। artificial intelligence এর মাধ্যমেই ধীরে ধীরে সব কাজ চালিয়ে নেওয়া হবে। তাই সব ক্ষেত্রেই ঘটবে কর্মী সঙ্কোচন।
উনিশ শতকের শিল্প বিপ্লবের পর দরকার হয়ে পড়েছিল কিছু দক্ষ বা অদক্ষ শ্রমিক কর্মচারীর। আর তাই চাষিদেরকেও জোর করে ধরে এনে কল-কারখানায় নিয়োগ করা হয়েছিল। এই শ্রমিক এবং তাদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য তখন দরকার হয়ে পড়েছিল এক শ্রেণীর শৃঙ্খলা-পরায়ণ কিছু মানুষ। দরকার হয়ে পড়েছিল অফিসার, ম্যানেজার, কেরাণী এবং আরও বিভিন্ন ধরণের শ্রমিকের। এই শ্রম -বিভাজনকে সঠিক মাত্রা দিতে পুঁজিবাদী শক্তির দরকার হয়ে পড়েছিল মানব সম্পদ। সেই মানব সম্পদ তৈরির লক্ষ্যেই প্রচলন ঘটেছিল প্রথাগত শিক্ষা-ব্যবস্থার। সর্বজনীন শিক্ষা-ব্যবস্থার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছিল। তৈরি হয়েছিল school college university। দরকার হয়ে পড়েছিল শিক্ষক সম্প্রদায়ের। কিন্তু আজ যখন artificial intelligence এসে গেছে , robotics এর দুনিয়ায় আমরা প্রবেশ করেছি, তখন এই প্রথাগত শিক্ষায় শিক্ষিত মানব সম্পদের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। দক্ষতা নির্ভর কাজের জন্য মানব সম্পদের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। এই জায়গা ধীরে ধীরে দখল করে নিচ্ছে যন্ত্র। তাই যে সমস্ত ক্ষেত্রে মানুষের বুদ্ধিমত্তা বা সৃজনশীলতার কাছে যন্ত্র পরাস্ত হবে,শুধুমাত্র সেই সমস্ত ক্ষেত্রেই দরকার হবে মানব সম্পদের।
একটা নির্দিষ্ট সিলেবাসের উপর পড়াশোনা করা ডিগ্রিধারীর ডিগ্রির গুরুত্ব আর থাকবে না। তাই ধীরে ধীরে school college university-র গুরুত্বও যাবে কমে। ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাবে সমস্ত প্রথাগত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষক শ্রেণির বিলুপ্তি ঘটবে।কর্পোরেট জগত তার নিজের প্রয়োজনে এবার নতুন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্ম দেবে। নব্বই দশকের শেষে আমরা দেখেছি বেসরকারী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের রমরমা। কিন্তু আজ সেগুলো বন্ধ হতে বসেছে। কারণ recruitment নেই। একটা সময় ছিল, যখন কোনও technology নতুন বের হলে তার চাহিদা থাকত বেশ কয়েক বছর। কিন্তু বর্তমানে technology এত দ্রুততার সাথে পরিবর্তিত হচ্ছে যে, technology নির্ভর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেই গতির সাথে পাল্লা দিয়ে তার সিলেবাস পরিবর্তনে অক্ষম হয়ে পড়েছে। বর্তমানে চার বছর ধরে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্র বা ছাত্রীরা যা শেখে, চার বছর পর যখন তারা ডিগ্রি হাতে পায় তখন technology তাদের থেকে অনেক এগিয়ে যায়। আর এই ছাত্র বা ছাত্রীকে যখন কোনও কর্পোরেট নিয়োগপত্র দেয়, তখন তাদের প্রয়োজনে up to date করার জন্য সেই ছাত্র বা ছাত্রীকে আবার ছয় মাস বা এক বছরের ট্রেনিং দিতে তারা বাধ্য হয়। এখন এই up to date থাকাটাই হয়ে যাবে শিক্ষা-ব্যবস্থার প্রধান শর্ত। তাই কর্পোরেট জগত তাদের প্রয়োজনে জন্ম দেবে নতুন ধরনের শিক্ষা-ব্যবস্থার । যেখানে artificial intelligence এর দায়িত্বে থাকবে দক্ষতা মূলক শ্রম। আর বুদ্ধিমত্তা ও সৃজনশীলতার জন্য দরকার পড়বে মানব সম্পদের। সমাজের সব ক্ষেত্রেই ঘটে যাবে এক নতুন ধরণের পরিবর্তন। আর বিলুপ্তি ঘটবে সমস্ত প্রচলিত ব্যবস্থার। সর্বজনীন শিক্ষার প্রয়োজন ফুরাবে। ‘বুদ্ধি যার শিক্ষা তার’ এই চিন্তাধারার প্রতিফলন ঘটবে। কর্পোরেটদের প্রয়োজনে যে শিক্ষা-ব্যবস্থার প্রচলন ঘটবে, কর্পোরেট দুনিয়া তাদের জগতে সেই মানুষেরই প্রবেশাধিকার দেবে যার বুদ্ধি আছে এবং যে ক্রমাগত তার বুদ্ধি দ্বারা নিজের চিন্তা চেতনা ও শিক্ষাকে পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম।
এখন প্রশ্ন বাকি মানুষের তাহলে কী হবে? এই পরিবর্তনের শুরুতে তারা প্রবল সংকটের মুখে পড়বে। লক ডাউনকে সেই নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডারের দরজা বলা যেতে পারে। লক ডাউনের নামে অতি দ্রুত পট-পরিবর্তন ঘটিয়ে ফেলা হচ্ছে সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির। ধ্বংস হতে চলেছে মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী শ্রেণির। তবে আশা রাখি, এই সংকটকাল উত্তীর্ণ হলে হয়তো নতুন ধরণের শ্রমের উদ্ভব ঘটবে। আর তখন এই খেটে খাওয়া শ্রম-নির্ভর শ্রেণির জন্য নতুন ধরণের কর্মক্ষেত্র প্রস্তুত হবে।

- Advertisement -
- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

Popular Articles

error: Content is protected !!