Wednesday, July 28, 2021

বাড়িতে অক্সিজেন দিলে করোনা রোগীর সমস্যা আসলে মেটে না, হাসপাতালে ভর্তি করাটাই দরকার : পুণ্যব্রত গুণ

পশ্চিমবঙ্গে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে কী কী করনীয়,সেই কাজ কিভাবে হচ্ছে, এই নিয়ে মুখ খুললেন এই রাজ্যে সকলের জন্য স্বাস্থ্য আন্দোলনের জনপ্রিয় চিকিৎসক নেতা ড. পুণ্যব্রত গুণ

প্রশ্ন :সর্বজনীন টেস্ট করার পদ্ধতিতে গোটা দেশকে কি কোনো একটা ব্যবস্থার অধীনে আনা যেত ? যাতে পরিবারের সকলে এক সঙ্গে টেস্ট করতে পারি, প্রত্যেক ঘরে ঘরে, প্রত্যেক বাড়ি বাড়ি, গিয়ে টেস্টিং করা কি সম্ভব?
ড. পুণ্যব্রত গুণ
  রাপিড টেস্ট বলে একটা কিট আছে  যেখানে কুড়ি থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে রিপোর্টটা পাওয়া যায

প্রশ্ন: সেই রিপোর্টটা নাকি নির্ভরযোগ্য নয়?

ড পুণ্যব্রত গুণ : প্রশ্নটা যদি নির্ভরযোগ্যতার হয় ,তাহলে বলব, যদি পজিটিভ হয় তাহলে তো নির্ভরযোগ্য বটেই। যদি সিমটম থাকে কিন্তু নেগেটিভ আসে সে ক্ষেত্রে আর্টিফিশিয়ালভাবে চেক করতে হয় । পজিটিভ পেয়ে গেলাম শুরু আমরা তাদের আইসোলেট করতে পারব যদি আইসোলেট করা যায় তাহলে খরচ কমে যেত আর সময়ও বেঁচে যেত কারণ রেপিড টেস্টে খরচ অনেক কম  আমাদের সংগঠনগুলো প্রায় বছর খানেক ধরে বারবার আমরা যখনই আমরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে  মিট করেছি মুখ্যমন্ত্রীর  কাছে চিঠি লিখেছি 5 আমরা বারবার করে হাসপাতালগুলিতে টেস্টের কথা বলেছি বলেছিল যে অ্যালাও করা হবে কিন্তু পরে অ্যালাও করা হয়নি । কিছুদিন আগে একটা অর্ডার বেরিয়েছে। সেখানে সরকারের পক্ষ  থেকে বলা হয়েছে রেপিড টেস্টে যেন বিশ্বাস করা না হয় এটা তার মানে গভর্মেন্ট বিশ্বাস করছে না রেপিড টেস্ট ঠিক।

- Advertisement -

প্রশ্ন : রেপিড টেস্ট করালে  একচুয়াল নাম্বারটা এসে যাবে আর সেটা  খুব ইনক্রিজিং হয়ে গেলে সরকারি ক্ষেত্রে এম্বারাসিং পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে ,কারণটা কি এটাই?

পুণ্যব্রত গুণ : একদম । এটাই । সরকার সংখ্যাটা কম করে দেখাতে চাইছে।

প্রশ্ন: আচ্ছা সরকার যেভাবে কাজটা করছে এই যেএতো সেফ হোম, করেছে পাড়ায় পাড়ায় কিন্তু সেখানে তো এত ডাক্তার নেই সেখানে কি কোন চিকিৎসা হচ্ছে  একচুয়ালি? সেখানে কি মানুষ কোন উপকার পাবে?

ড. পুণ্যব্রত গুণ: সেফহোম হচ্ছে মাইন্ড সিমটোমেটিক বা মডারেট   সিমটোমের রোগীদের জন্য। সেফ হোমে একেবারে চিকিৎসা হচ্ছে না তা নয়। সেখানে ডাক্তার থাকবে। কিন্তু সব সময় ডাক্তার থাকার কথা তো নয়। যাদের বাড়িতে থাকার জায়গা নেই বা যাদের বাড়ির মধ্যে আইসোলেটেড থাকা সম্ভব হচ্ছে নান বা ফ্যামিলির মধ্যে সব মেম্বার ইনফেক্টেড হয়ে গেছে,এরকম ক্ষেত্রে তাদের সেখানে রাখার ব্যবস্থা করা হয়।  এখানে ডাক্তার দিনের মধ্যে দুবার ভিজিট করবে। এটা করা তো সম্ভব।

প্রশ্ন: ডাক্তাররা কি সেফ হোমে ভিজিট করছে? হ্যাঁ করছে। অবশ্যই করছে ।:সরকার  সংখ্যাটা কম করে দেখাতে চাইছে।আচ্ছা আমাদের এই পশ্চিমবঙ্গে অক্সিজেনের কি কোন প্রবলেম আছে? এই মুহূর্তে আমাদের হেলথ সেক্টর কি কোন ক্রাইসিস আছে? অক্সিজেন এর ব্যাপারে, বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের ব্যাপারে?

ড. পুণ্যব্রত গুণ: অক্সিজেনের ক্রাইসিস থাকার কথা ছিল না । অক্সিজেন বেডের অভাব ছিল । মানুষ হাতে অক্সিমিটার লাগাচ্ছে, অক্সিজেনের মাত্রা কম হলে হাসপাতলে ভর্তি হতে চাইছে কিন্তু হাসপাতালের বেড নেই শুনে লোকে তখন ভাবছে বাড়িতে একটা অক্সিজেন সিলিন্ডার আনিয়ে নিলে চিকিৎসাটা তো হয়ে যাবে। মুশকিল হল যে ফ্লো রেটে, ফ্লো রেট বলে একটা কথা আছে । মানে যেভাবে অক্সিজেন বেরোয় বাড়িতে যে ফ্লো রেটে অক্সিজেন দেওয়া হয় তার থেকে অনেক বেশি ফ্লো রেটে অক্সিজেন দেওয়ার প্রয়োজন হয়। কোভিড নাইনটিন বা করোনা রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে কেবলমাত্র অক্সিজেন না, অক্সিজেনের সাথে সাথে আরো দুটো জিনিস লাগে। একটা হচ্ছে ইন্টার ভেনাস স্টেরোয়েড, আর একটা চামড়ার নিচে অ্যান্টি ভল ভেন্তেরি ইনজেকশন । সুতরাং বাড়িতে যারা অক্সিজেন নিচ্ছে তারা ভাবছে আমরা বাড়িতে তো অক্সিজেন নিচ্ছি ,তাহলে ভালো হতে অসুবিধে কোথায়?যাদের পক্ষে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেশি কেনার মতো টাকা আছে তারা অতিরিক্ত অক্সিজেন কিনে তুলে রেখে দিচ্ছে । ধরুন আপনি যদি একটা সিলিন্ডারে মিনিটে চার লিটার করে অক্সিজেন নেন তাহলে দিনে আপনার তিনটা সিলিন্ডার লাগবে। যারা বাড়িতে বাড়িতে অক্সিজেন পৌঁছচ্ছে তারা কিন্তু প্রকৃতই সাহায্য করতে চায়, কিন্তু পারবে না। তারা সাহায্য করতে চাইছে কিন্তু না জেনে ক্ষতি করে দিচ্ছে। মানুষের মনে ধারণা হবে আমি তো অক্সিজেনটা পেয়ে গেলাম। যারা তাদের দ্বিতীয়বার অক্সিজেন ভরে দিল তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও তৈরি হল কিন্তু আলটিমেটলি কিন্তু আলটিমেটলি সরকারকেই  বেড দিতে হবে।

- Advertisement -
- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

Popular Articles

error: Content is protected !!