Friday, June 25, 2021

প্রতিদিন ঢুকছে শরণার্থী , বাড়ছে খুন ,রাহাজানি, ছোটখাটো দাঙ্গা , সামাজিক সংকট তীব্রতর,আমেরিকা থেকে লিখছেন
দীপিকা ঘোষ


কী ঘটছে আমেরিকায়? ঘটছে রাশিরাশি, স্তূপীকৃত, অবাঞ্ছিত সব ঘটনাবলী। ওপেন বর্ডার পলিসির কারণে প্রায় পাঁচ মাস ধরে বর্ডার ক্রাইম এবং ক্রাইসিস আকাশচুম্বী। কেন্দ্রীয় সরকার থেকে বলা হচ্ছে, অবৈধ মাইগ্রেশন হচ্ছে না। কারণ সীমান্ত বন্ধ। বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্টরা জানাচ্ছেন, সীমান্ত খোলা। টেক্সাস-মেক্সিকান সীমান্ত দিয়ে তুরস্ক, ইয়েমেন, ইরাক, লিবিয়া, ইরান, সিরিয়া, সেন্ট্রাল আমেরিকাসহ ১৬৩ দেশের মানুষ ঢুকছে। তাদের পরিধানে দামী টি-শার্ট, ড্রেসপ্যান্ট। বুকের ওপর লেখা, ‘Biden, Please Let Us in’. মানব পাচারকারি দালালরা মাইগ্র্যান্টদের কাছ থেকে প্রতিজনের জন্য তিন হাজার ডলার করে নিচ্ছে। ২০শে জানুয়ারি থেকে ২৯ মে পর্যন্ত শুধু পরিজনহীন শিশুর সংখ্যাই ছিল ২৫০০০ হাজারের বেশি। ওবামার আমলের মতো (২০১৪ সালে) তাদের বসবাসের জন্য স্টিলের খাঁচা তৈরি করা হয়েছে। এদের ঘিরে যে অমানবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে, সেদিকে আঙ্গুল তুলে বহুজনেরই মন্তব্য -এর পরিণতি মাইগ্র্যান্ট এবং যুক্তরাষ্ট্র কারুর জন্যই শুভ হবে না। অস্ত্রসহ আলকায়েদা টাইপের জঙ্গীরাও ধরা পড়েছে। এছাড়াও রয়েছে MS-13 Gang (International Criminal gang). প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল – প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে কেন আসছে যুক্তরাষ্ট্রে? বাইডেন হেসে উত্তর দিয়েছিলেন – Because I am a nice person.
পাশাপাশি চলছে স্কুল না খোলার অজুহাতে টিচার’স ইউনিয়নের (পাবলিক স্কুল, প্রাইভেট স্কুলগুলো গত বছরই খুলে গিয়েছে) অভূতপূর্ব সব কার্যক্রম। তারা বিপুল পরিমাণে অর্থ এবং সুযোগ সুবিধা আদায় করে নিলেও ক্লাশে উপস্থিত হতে অনিচ্ছুক। ছাত্রদের বাবামায়েরা প্রবল প্রতিবাদী। কিন্তু বর্তমান সরকার তাদের সমর্থনপুষ্ট হওয়ায় এদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার প্রশ্ন ওঠে না। ওদিকে Black Lives matter অর্গাইজেশনের ফাণ্ড থেকে তিন মিলিয়ন ডলার দিয়ে বাড়ি কেনার পরে কো-ফাউণ্ডার প্যাট্রিসি রিজাইন করেছেন। কারণ তার উদ্দেশ্য চরিতার্থ। যদিও BLM এবং Antifa-এর চরমপন্থীরা এখনো থেকে থেকেই রায়ট এবং লুটপাট চালানো বন্ধ করেনি। লুটপাট সম্পর্কে এদের বক্তব্য – এতদিন যারা বঞ্চিত থেকেছে, তাদের অন্যের সম্পদ লুট করার শত থিভাগ নাগরিক অধিকার আছে। নিয়মিত পুলিশ হত্যা, অর্গাইনাইজেশনের অর্থ বরাদ্দ কমিয়ে দেয়ায় ডেমোক্র্যাটিক রাজ্যগুলোতে অপরাধ আর খুণের ঘটনা ৮০০% (পোর্টল্যাণ্ডে) থেকে ৩৫% পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায়, নীল রাজ্য ছেড়ে নাগরিকরা লাল রাজ্যে (রিপাবলিকান রাজ্যে) পাড়ি জামচ্ছেন। জনঅসন্তোষ বাড়ছে। ৭৩ শতাংশ নাগরিক জানিয়েছেন – গত বছরের তুলনায় ক্রাইম এবং ক্রাইসিসের পরিমাণ এরই মধ্যে অনেক বেশি। অবশ্য হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি সেটা অস্বীকার করেছেন। বলেছেন – This is not a crime problem, this is gun problem.
ভাইস প্রেসিডেন্ট হ্যারিস, লক্ষ লক্ষ মানুষের আমেরিকায় প্রবেশের কারণ জানতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি বর্ডার পর্যবেক্ষণে যাননি। গিয়েছিলেন মেক্সিকোয় ঘুরে বেড়াতে। ফিরে এসে মূল কারণ সম্পর্কে জানিয়েছেন – ওখানে খুব টর্নেডো হয়। মানুষ তাই যুক্তরাষ্ট্রে এসে আশ্রয় নিচ্ছে। সাংবাদিকরা মাইগ্র্যান্টদেরও জিজ্ঞেস করেছিলেন। তাদের উত্তর ছিল – প্রেসিডেন্ট বাইডেন ওপেন বর্ডার পলিসিতে বিশ্বাসী। আমরা তাই সমৃদ্ধ জীবন যাপনের আশায় আমেরিকায় বাস করতে চাই। এ সম্বন্ধে মেক্সিকান প্রেসিডেন্ট এ্যন্ড্রিস ম্যানুয়েল অবরাডের মন্তব্য -‘They see him as the migrant President, and so many feel they are going to reach the United States.’
যাইহোক প্রায় প্রতিদিন পুলিশ হত্যা, নিয়মিত রায়ট, টেক্সাস বর্ডার দিয়ে সাধারণ মানুষের ভিড় ঠেলে বিভিন্ন টেরোরিস্ট গ্রুপের প্রবেশ, ড্রাগ স্মাগলাদের নির্বিবাদে ড্রাগ পাচার, ডেমোক্র‌্যাটিক রাজ্যগুলোয় হত্যাযজ্ঞের উৎসব, গ্যাস ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি প্রভৃতি আপাতত এখানকার নতুন স্বাভাবিক পরিস্থিতি হিসেবে গণ্য। তবে ঘটনার তালিকায় নিঃসন্দেহে একটি নতুন সংযোজনও রয়েছে। অন্তত প্রেসিডেন্ট ক্লিন্টনের আমল পর্যন্ত তা ডেমোক্র্যাটিক দলের সমর্থন পায়নি। সেটি হলো, ইহুদি ধর্মের পথচলতি মানুষ এবং তাদের সম্প্রদায়ের ওপর হামাস সমর্থকদের গাড়িবহর নিয়ে প্যালেস্টাইনের ফ্লাগ উড়িয়ে নির্বিচারে আক্রমণ করার ঘটনাগুলো। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-হামাসের ভয়ংকর যুদ্ধের পরে এসব ঘটনা ঘটছেই। নিউইয়র্ক সিটির আক্রমণকারীদের হাতে ধরা ব্যানার, প্লাকার্ডে দেখা গেলো, তাতে বড় বড় করে লেখা – “Kill the Jews along with Hindus”. আমেরিকার কালচার আপাদমস্তক বদলে ফেলার বিপ্লবী মানসিকতায় নতুন ডেমোক্রাটরা এতে অবশ্য অন্যায় কিছু দেখছেন না।


- Advertisement -
- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -
[td_block_7 modules_on_row=”eyJwaG9uZSI6IjEwMCUifQ==” image_floated=”float_left” image_width=”30″ image_height=”100″ show_btn=”none” show_excerpt=”none” modules_category=”above” show_date=”none” show_review=”none” show_com=”none” show_author=”none” meta_padding=”eyJhbGwiOiIwIDAgMCAxNXB4IiwicG9ydHJhaXQiOiIwIDAgMCAxMHB4In0=” art_title=”eyJhbGwiOiI4cHggMCAwIDAiLCJwb3J0cmFpdCI6IjVweCAwIDAgMCJ9″ f_title_font_family=”712″ f_title_font_size=”eyJhbGwiOiIxNSIsInBvcnRyYWl0IjoiMTEifQ==” f_title_font_weight=”500″ f_title_font_line_height=”1.2″ title_txt=”#000000″ cat_bg=”rgba(255,255,255,0)” cat_bg_hover=”rgba(255,255,255,0)” f_cat_font_family=”712″ f_cat_font_transform=”uppercase” f_cat_font_weight=”400″ f_cat_font_size=”11″ modules_category_padding=”0″ all_modules_space=”eyJhbGwiOiIyNCIsInBvcnRyYWl0IjoiMTUiLCJsYW5kc2NhcGUiOiIyMCJ9″ category_id=”” ajax_pagination=”load_more” sort=”jetpack_popular_2″ title_txt_hover=”#008d7f” tdc_css=”eyJwaG9uZSI6eyJtYXJnaW4tYm90dG9tIjoiNDAiLCJkaXNwbGF5IjoiIn0sInBob25lX21heF93aWR0aCI6NzY3LCJhbGwiOnsiZGlzcGxheSI6IiJ9LCJwb3J0cmFpdCI6eyJkaXNwbGF5IjoiIn0sInBvcnRyYWl0X21heF93aWR0aCI6MTAxOCwicG9ydHJhaXRfbWluX3dpZHRoIjo3Njh9″ cat_txt=”#000000″ cat_txt_hover=”#008d7f” f_more_font_weight=”” f_more_font_transform=”” f_more_font_family=”” image_size=”td_150x0″ f_meta_font_family=”712″ custom_title=”Popular Articles” block_template_id=”td_block_template_8″ border_color=”#008d7f” art_excerpt=”0″ meta_info_align=”center” f_cat_font_line_height=”1″ pag_h_bg=”#008d7f” image_radius=”100%” td_ajax_filter_type=”” f_header_font_size=”eyJwb3J0cmFpdCI6IjE1IiwiYWxsIjoiMTgifQ==” f_header_font_weight=”500″ f_header_font_transform=”uppercase” f_header_font_family=”712″ pag_h_border=”#008d7f” m6_tl=”50″ f_header_font_line_height=”1.5″ m6f_title_font_size=”eyJhbGwiOiIxNiIsInBob25lIjoiMTcifQ==” m6f_title_font_line_height=”1.5″]
error: Content is protected !!